রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮

সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি, প্রস্তুত কয়েক লাখ সেনা

সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি, প্রস্তুত কয়েক লাখ সেনা
অনলাইন ডেস্ক

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সীমিত পরিসরে উপকূলীয় অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলার দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ।

আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনী সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিচালনা করবে এবং তাদের বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা দিতে পারে রিয়াদ।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের পরিসর অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। তবে অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কিংবা নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদির বিবেচনায় থাকা প্রথম পরিকল্পনাটি বাব আল-মান্দেব ঘিরে সীমিত অভিযান। আর দ্বিতীয় পরিকল্পনায় আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে হামলা চালানোর কথা রয়েছে।

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সৌদি আরব নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয় জোটটি। তবে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা আবার বেড়েছে।

সম্ভাব্য অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো তুরস্ক ও পাকিস্তানও দেশটিকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় দেশটি কয়েক ধাপে সেনা মোতায়েন করেছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য অভিযানে সৌদি আরবের অন্যতম বড় উদ্বেগ হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। বিশেষ করে দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় রিয়াদ মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাইছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ইয়েমেনে স্থল অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি-সমর্থিত বিভিন্ন বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে রিয়াদকে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এসব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন অভিযান শুরু হলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়