বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৮

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগান এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রসায়নে নোবেলজয়ী এই দুই বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স জানিয়েছে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াইকে এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণু দুটি ভিন্ন রূপে বিদ্যমান থাকে, যেগুলো পরস্পরের প্রতিচ্ছবি। তবে জীবদেহে সাধারণত এর একটি রূপই দেখা যায়। এই রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে একটি রহস্য ছিল। সেই রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুই বিজ্ঞানীকে এবারের নোবেল দেওয়া হয়েছে।

জীবনের রসায়নে এই বৈশিষ্ট্যকে ‘হোমোকাইরালিটি’ বলা হয়। হাতের মতো অনেক অণুরও দুটি আয়না-রূপ থাকে। অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রে এর একটি রূপ জীবদেহের কোষে প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, অন্যটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।

হোমোকাইরালিটি কীভাবে তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুটি আয়না-রূপের অণু প্রায় সমান পরিমাণে তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ওষুধসহ জীবদেহের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি রূপ প্রয়োজন হয়।

নোবেল কমিটির মতে, ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার এমন আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা রসায়নবিদদের কাঙ্ক্ষিত হোমোকাইরাল রূপ তৈরি করে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছে।

১৯৮৬ সালে হেনরি কাগান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেন। তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিপথ পরিবর্তনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে একটি আয়না-রূপের অণু তৈরির ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেন। তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরির পদ্ধতি দেখান, যার মাধ্যমে সম্ভাব্যভাবে হোমোকাইরাল উৎপাদন সম্ভব হয়। ২০০৩ সালে তিনি এমন একটি বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে একটি আয়না-রূপের অণু তৈরি হয়েছিল।

এর আগে ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াগি। ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেলজয়ী হন জন বি. গুডএনাফ; ২০১৯ সালে ৯৭ বছর বয়সে তিনি পুরস্কারটি পান। অন্যদিকে ১৯৩৫ সালে ৩৫ বছর বয়সে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন ফ্রেদেরিক জোলিও-কুরি। এখন পর্যন্ত মোট ১৯৮ জন রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের নামানুসারে এ পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। তাঁর উইল অনুযায়ী পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। পরে ১৯৬৯ সাল থেকে এর সঙ্গে অর্থনীতিও যুক্ত হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়