প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৮
বাংলাদেশ ‘ক্রাইসিস বাটন’ চেপে দিয়েছে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে গত বুধবার বাংলাদেশ যে আবেদন করেছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘ এখনই চূড়ান্ত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জানাবে না। এতে সময় লাগবে। কিন্তু বাংলাদেশ ‘ক্রাইসিস বাটনে’ চাপ দিয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
আগামী সোমবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক রয়েছে নিউইয়র্কে।
সিডিপির এই বৈঠকে ঠিক হবে, কিভাবে বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়ন করা হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার রাতে নিউইয়র্ক গেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সিডিপির এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান ও সিডিপির সদস্য। ইএমএম কাঠামোর মধ্যে ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে।
যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা অভাবিত কিছু ঘটে, তখনই এই সুযোগ ব্যবহার করা হয়। এই চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ক্রাইসিস বাটন চেপে দিয়েছে। শেষবার এটি ব্যবহার করেছিল সলোমন আইল্যান্ডস। তারা তখন সুনামির অভিঘাতসহ নানা সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে জন্য তাদের দুই-তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে ইএমএম উপকমিটিরও বৈঠক হবে। যেসব দেশ এরই মধ্যে উত্তরণ সম্পন্ন করেছে এবং যেসব দেশ পাইপলাইনে আছে, সেই দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। পাইপলাইনে থাকা তিনটি দেশ হলো—বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন বিষয় হলো, উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার চিঠি দেওয়া।
কিন্তু এটি সরকারপ্রধান নয়, একজন সচিবের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয় বলে জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, প্রথাগত কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশকে আগের উত্তরণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সবচেয়ে সামপ্রতিক তথ্য মিলিয়ে বিচার করা হবে। বিশেষ করে নভেম্বর মাসে সরকারের দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে নতুন আবেদনের তুলনা হবে। কেননা, যে সচিব এখন উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন, তিনিই গত নভেম্বর মাসে বলেছিলেন, সবকিছু ঠিক আছে। উত্তরণকালীন কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কতটা আন্তরিক ছিল, তা-ও বিবেচনার বিষয় হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হবে না। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করে দিয়েছে। নেপাল ও লাওসের ক্ষেত্রে নতুন কোনো আবেদন নেই। তাই বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়নের সময় এই দুই দেশের অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান দেবপ্রিয়। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।







