রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪

বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দুটি সরকার দেশের শিশুদের যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করা এবং সরকারের নতুন নির্দেশনাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা মানুষের পরম বন্ধু হয়ে উঠেন যখন মানুষ অসুস্থ হয়ে উঠে। এটি আমার নিজের ঘর দিয়ে বুঝতে পারি। একজন ডাক্তারের উপদেশ, সুন্দর ব্যবহার একজন রোগীর কাছে ঔষধের মতো কাজ করে। ফলে একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠা একান্ত জরুরি।

উন্নত দেশ হয়েও ব্রিটেন এনএইচকে দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে গেলে দেশের অধিকাংশ মানুষ ইউকেতে যান। রাজনৈতিক কারণে আমাকে অনেকগুলো বছর ইউকেতে থাকতে হয়েছে। ইউকের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এনএইচএসকে খুব কাছ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। অবশ্য ব্রিটেন আমাদের থেকে অনেক ধনী একটি রাষ্ট্র। কিন্তু সেখানেও সরকার এনএইচকে চালাতে বা এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবই শহরকেন্দ্রিক। এই বৈষম্য দূর করতে আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করছি। ফলে রোগীদের আর আর্থিক ও শারীরিক কষ্ট করে ঢাকামুখী হতে হবে না। স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার শিগ্‌গিরই একটি সমন্বিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। এতে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হবে, যেন চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কোনো নাগরিককে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়।

দেশের ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবনযাপনের ধরনের কারণে শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক ও হৃদরোগ বাড়ছে। উপজেলা পর্যায়েই এখন থেকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত স্ক্রিনিং করা হবে। সেই সঙ্গে ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়