প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৩
যেভাবে খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল মোসাদ ও সিআইএ

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার জন্য বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। এই পরিকল্পনা বহু দশক ধরে তৈরি হলেও গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র প্রযুক্তিগত ও মানব গোয়েন্দা সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে তেহরানে সমন্বিত একাধিক হামলায় খামেনিসহ ‘শীর্ষ সাত নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই অভিযানে আরও প্রায় ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশলগত অভিযান শুরু করেছে। তবে কেউ কেউ সতর্ক করছেন যে নেতৃত্বের শূন্যতা কখনও কখনও আরও কঠোর ও অনির্দেশ্য শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বহু বছর ধরে ইরানে তথ্যদাতা, লজিস্টিকস ও অপারেটিভদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। খামেনির দৈনন্দিন রুটিন, নিরাপত্তা বলয় এবং ঘনিষ্ঠদের ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো হয়। এই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিআইএর সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স, ফোনালাপ, অবস্থান ও বৈঠকের সময়সূচি সম্পর্কিত তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খামেনি কখন নির্দিষ্ট কম্পাউন্ডে উপস্থিত হবেন; এই তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একত্রিত তথ্য ব্যবহার করে নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। বিদেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও এর আগে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করেনি ইসরায়েল। তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক সাবেক প্রধান এটিকে কৌশলগত ও অভিযানগত বড় চমক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, গুপ্তহত্যা কখনো স্থায়ী সমাধান নয়। হামাস ও হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যা করলেও সংগঠনগুলো টিকে থাকে। এক সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা বলেছেন, মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ছিল ইসরায়েলের। যদিও অভিযানটি মাত্র ৬০ সেকেন্ডে শেষ হয়েছে, এর পেছনে ছিল বছরের পর বছর প্রস্তুতি। আধুনিক যুদ্ধ এখন তথ্য, অনুপ্রবেশ এবং সঠিক সময় নির্বাচন নির্ভরশীল।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাই নিহত হওয়ার খবরও দেয় ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো। এদিকে ওই হামলায় আহত আলি খামেনির স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহও দুদিন মারা গেছেন।
এদিকে, গত ৩ মার্চ সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি। মূলত বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট মুজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।







