শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:০১

উগ্রবাদ নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা বললেন রিজওয়ানা হাসান

উগ্রবাদ নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা বললেন রিজওয়ানা হাসান
অনলাইন ডেস্ক

নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে জানিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচনের প্রসঙ্গ যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে দেওয়া সেই বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচন ও বিরোধী দলকে জড়িয়ে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।

সম্প্রতি বেসরকারি গণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হচ্ছিল। এর মধ্যে নারীর প্রতি উগ্রবাদ ও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গও আসে। উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির বিষয়গুলো তিনি কীভাবে দেখেছেন? এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকেই উগ্রপন্থীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন—এ কথাও প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন , ‘যারা কটূক্তি করেছে তাদের বিষয়ে নারী সমাজ যেমন প্রতিবাদ করেছে, লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে, সরকারও কথা বলেছে। ফলে তারা ক্ষমা চেয়েছে। সেই সব কটূক্তি করা উগ্রবাদী শক্তি যেন মেইন স্ট্রিম (মূলধারা) না হয় সেটার বিষয়ে আমাদের (নারী সমাজকে) কাজ করতে হবে। আমি বলেছি নারী সমাজ (সরকার নয়) সেসব কটূক্তি করা শক্তিকে মেইন স্ট্রিম হতে দেয়নি।’

বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলাপের একপর্যায়ে উপস্থাপক নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুললে তখন তিনি বলেন, বিরোধী দলের যেসব উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব বিষয়ে তারা কাজ করবেন। এরপর তিনি আবার মূল প্রশ্নে ফিরে গিয়ে উগ্রবাদ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

তার দাবি, পুরো আলোচনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি, কারণ সেটি প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছিল না। বিরোধী দল অবশ্যই মূলধারার অংশ এ কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি কোনো দলকে মেইন স্ট্রিম হতে দিইনি বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেটা কেবলই অপব্যাখ্যা, অবান্তর এবং বিভ্রান্তিকর। আমার বক্তব্য ছিল উগ্রবাদী শক্তি বিষয়ে, কোনো দলের বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য ছিল না।’

এদিকে আজ দুপুরে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তোলেন জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের বিচার দাবি করেছে।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার অপরাধে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুম'আ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি, তিনি হলেন সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা। তিনি সাংবাদিকের কাছে স্বীকার করেছেন যে, যারা তার ভাষায় নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মূল ধারায় আসতে দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি সত্য এবং তিনি নিজেই এর রাজসাক্ষী হয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান-এর বিশেষ আয়োজন ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নয়নাদিত্যর এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসানকে বলতে শুনা যায়, ‘সমাজে একটি শক্তি সব সময় নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই শক্তির একটি অংশ রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকতে পারে। তবে আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় আসতে না পারে এবং আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি।’ পরে এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়