সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৫:৪৯

তারেক রহমানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে চীন

তারেক রহমানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে চীন
অনলাইন ডেস্ক

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানের জন্য চীনের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাদা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সুযোগ পাওয়া বিরল ঘটনা। এ কারণেই তারেক রহমানকে চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চীনা শিল্পকারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সরাসরি আকাশপথ চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

এছাড়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব ক্ষেত্রে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নীতিতে এগোচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হবে এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়