প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা তুহিনের, হত্যাও তার নির্দেশে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যাকাণ্ডের পরদিন সাইফুল ইসলাম তুহিনকে (১৯) হেফাজতে নেয় পুলিশ। তখনও তারা জানতেন না অপ্রতিম আর নেই। গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর পুলিশের কাছে পৌঁছায়।
তদন্তকারীরা বলছেন, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত আটটার দিকে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তুহিন। তবে সহযোগীদের নাম শিকার করতে চাচ্ছিলেন না।
এসময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। ফোন করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করা মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫)। বিষয়টি তদন্তকারীরা আমলে নিয়ে তাকেও হেফাজতে নেয়। এরপর তুহিন মো. কামরুল হাসানের (১৬) নামের আরেক কিশোরের নাম সামনে আনে। তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর তিনজনকে একত্রে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে মূল বর্ণনা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোর গ্যাং লিডার তুহিনই আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। অপ্রতিমকে হত্যাও করা হয় তারই নির্দেশে। তুহিনই বাকি সবাইকে ডেকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত করে।
ঘটনার দিন মোবাইলে তুহিন ডেকে আনে ফাহাদ ও কামরুলকে। তাদের নিয়েই আইফোন ছিনতাই ও পরে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরদিন হত্যাকাণ্ডের সব খুলে বলে সমবয়সী বন্ধু সিয়ামকে (১৯)। এই চারজনই এখন হত্যা মামলার আসামি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুহিন নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বাইক ছিনতাই কিংবা বিক্রির কথা বলে ক্রেতা আসলে জিম্মি করে টাকা লুট করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তুহিনের আরেক বন্ধু নীরব এইসব অপরাধের ঘনিষ্ঠ সাথী। তারা একত্রে মোটরসাইকেল চালাত এবং অপ্রতিমও তাদের কাছ থেকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালাত।
তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁঘা সালমানপুর সানন্দা এলাকার নুরে আলমের ছেলে। তার পরিবারও এসব কথা জানতও।
স্থানীয়রা দাবী করছে, তুহিন বেশ ‘পাওয়ারফুল’। তবে এই ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলছেন না।
ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী
হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ঘাতক মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানর ডেলিভারিম্যান। মাত্র ১৬ দিন আগে সে চাকরিতে যোগ দেয়। এখনও তার সাথে চুক্তিপত্র হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ধস্তাধস্তির সময় বাঁশ দিয়ে অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করে মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন। এরপরই আঘাত করে ফাহাদ। তারপর মো. কামরুল হাসান। তারা মৃত্যু নিশ্চিত করে। তিনজনই হত্যাকারী।
তিনজনেরই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পুলিশকে জানিয়েছে শুধুমাত্র আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করতে হয়েছে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও তাই মনে করছেন। সোমবার সকালে জানতে চাইলে কালবেলার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আইফোনটি ১৭ প্রো ম্যাক্স মডেলের।
অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে। নাম ইয়েসটেক। তাদের গন্ধমতি কোটবাড়ির বাসা, মায়ের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সবই কাছাকাছি এলাকায়। ব্যবসাটির পার্টনারশিপ রয়েছে। দুইজন মিলে করছেন।
ফাহাদের বাসাও কাছাকাছি একই এলাকার। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে ফাহাদ। তার বাবা পেশায় অটোচালক। বাবা-মায়ের অনুরোধেই চলতি মাসের ২ তারিখ তাকে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হত্যায় জড়িত সবাই বখাটে। অনিয়মিত, কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র।







