প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:২৫
মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে: টিআইবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের সুস্পষ্ট অভিযোগ পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির গবেষণায় উঠে এসেছে, মাঠপর্যায়ে একটি আসনে নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে কোনো কোনো প্রার্থীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্য দলগুলোর প্রতিনিধিরাই জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো কাউন্সিল করেনি বলে জানিয়েছে টিআইবি। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরাসরি মনোনয়ন বাণিজ্যের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। গবেষণায় এ বিষয়ে তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের নির্বাচনে কোনো কোনো প্রার্থীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্য দলগুলোর প্রতিনিধিরাই জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে যেসব অভিযোগ প্রকাশিত হয়, দলগুলোর নিজস্ব বক্তব্যেই সেসব অভিযোগের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে একজন প্রার্থী নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও নির্বাচন কমিশনে পুরো দল মিলে বছরে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। দলগুলোর এই আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে পর্দার আড়ালে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন ও অবৈধ অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
১০ বছরের বেশি কাউন্সিল করেনি বিএনপি
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের সংকট তুলে ধরে টিআইবি জানায়, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো কাউন্সিল আয়োজন করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়া, তৃণমূলের কার্যকর অংশগ্রহণের ঘাটতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের অনীহার কারণে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্বপরায়ণতা ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে।
দেশে বর্তমানে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নির্ধারিত হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল ও তৃণমূলের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দলগুলো ভেতর থেকে শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে ওপরের স্তরের মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।







