বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:১৭

একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন। কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

তিতাসে খনন হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ

দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে বিজিএফসিএল তাদের পরিচালনাধীন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি এবং ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিতাসের নতুন দুটি কূপ খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

অন্যান্য প্রকল্পে বড় বরাদ্দ

একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং প্রতিরক্ষা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প। বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়ন, ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩ হাজার ৯৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট স্থাপনে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পটির ব্যয় ৫২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন, ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।

একনেক সভায় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়