প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৬
ভাষা ও সংস্কৃতিতে পরিকল্পিত আগ্রাসন চলছে: রিজভী

বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতিতে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তে ভাষার মূল রূপ বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিরোধের সক্ষমতা এ দেশের মানুষের রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে নতুন কিছু শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ও ব্যবহৃত শব্দ বাদ দিয়ে নতুন শব্দ বা শব্দের রূপ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার অংশ। খুন, রক্ত ও লাশের মতো প্রতিষ্ঠিত শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহারের সূক্ষ্ম চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ জাতির সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। ফলে যেকোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অভ্যন্তরীণ শক্তি এ দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ সামগ্রিক অর্থে পূর্ণাঙ্গ নবজাগরণ ছিল না। তাঁর মতে, এটি মূলত হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছিল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় তথা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটকালে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের তোষামোদ করেছেন বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক পরিচিত বুদ্ধিজীবী অবস্থান নিয়েছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের সময়ও এমন প্রবণতা দেখা গেছে।
তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে নিখোঁজ, গুম ও ভোটাধিকার হরণের মতো বিষয় নিয়ে তাঁরা কথা বলেননি। অন্যদিকে দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র হয়ে দেশের সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো এবং দেশের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রচেষ্টাকে জোরদার করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ড. মুস্তাফা মজিদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, চিত্রনায়ক হেলাল খান, বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান, সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু, মো. আবু হোরায়রা ও পারভীন সুলতানা রাব্বী।
সেমিনারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।







