প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪২
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে মিথ্যা তথ্যের ঢেউ, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রথম ‘জেন–জি অনুপ্রাণিত’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে ছড়িয়ে পড়া সমন্বিত মিথ্যা তথ্য ভোটারদের সঠিক ধারণা বিকৃত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের প্রচারের অনেকটাই প্রতিবেশী ভারত থেকে আসছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এএফপির সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পদচ্যুত হয়েছেন। ২০০৯ সালের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। তাই বিভিন্ন মহল তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ছবি, ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
এএফপির সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এএফপির ফ্যাক্ট-চেক দল সামাজিক মাধ্যমে এআই জেনারেটেড ভিডিও খুঁজে পেয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই এআই ডিসক্লেইমার ছাড়া প্রকাশিত হয়েছে। একাধিক ভিডিওতে বাংলাদেশিরা শেখ হাসিনাকে প্রশংসা করা হয়, তিনি বর্তমানে পলাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
এছাড়াও, ভারতে হিন্দু মৌলবাদীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনার কারণে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটারের আইপিএল ক্লাব তার চুক্তি বাতিল করেছে, যা অবশেষে বাংলাদেশ দলকে এই মাসের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১৭০,০০০ এর বেশি একাউন্ট থেকে ৭ লাখের বেশি পোস্টে হিন্দু গণহত্যা দাবি প্রচার করা হয়েছে। এই কনটেন্টের ৯০ শতাংশ ভারত থেকে এসেছে এবং বাকিটা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।
ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রাইটের প্রধান বলেছেন, আমরা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভুয়া তথ্য লক্ষ্য করছি। বিনামূল্যের এআই সরঞ্জামগুলো জটিল মিথ্যা তৈরি করা সহজ করেছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন , তারা সামাজিক মাধ্যম মনিটর করার জন্য মেটার সঙ্গে কাজ করছে, তবে অনলাইনে প্রচারের বিশাল পরিমাণ মোকাবিলা করা একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।
অন্তর্বর্তী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “নির্বাচনকে ঘিরে মিথ্যা তথ্যের ঢেউ তীব্র আকার নিচ্ছে, যা বিদেশি ও দেশীয় উভয় উৎস থেকে আসছে।” বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। দেশের প্রায় ১০% সংখ্যালঘু, যার অধিকাংশ হিন্দু। অনলাইনে #HinduGenocide হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে মিথ্যা দাবির প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সম্পর্কিত ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২% ধর্মীয় উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জাসমিন টুলি বলেছেন, শহরে ৮০ শতাংশ পরিবারের এবং গ্রামীণ অঞ্চলে প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারের কাছে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনও প্রযুক্তি ব্যবহার ও যাচাইয়ে অভ্যস্ত নয়। তিনি আরও বলেছেন, এআই জেনারেটেড ভুয়া ছবি ও ভিডিও ভোটারদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে পারে, যা দেশের জন্য বড় হুমকি।
উল্লেখ্য, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরে ৮০ শতাংশের বেশি পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন আছে, আর গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ, তবে অনেক মানুষ এখনও প্রযুক্তি ব্যবহার ও যাচাইয়ে নতুন।







