শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪৩

তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে মির্জা ফখরুল

তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক

ছাত্ররাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী—রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের রাজনৈতিক জীবন বিস্তৃত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে ছিলেন।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি পড়ানোর পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। এরপর দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। একই মেয়াদে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পরও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়েই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একদিকে খালেদা জিয়ার কারাবাস ও পরবর্তী সময়ে অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া, অন্যদিকে তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থান—এই পরিস্থিতিতে দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর থেকে টানা এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যও ছিলেন এবং এরশাদ সরকারের সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন মির্জা ফখরুল। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনের বামপন্থী রাজনীতি থেকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দলের নীতি নির্ধারণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের নেতাদের মতে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে সংগঠিত রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এবার রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের অপেক্ষায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়