প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩
ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ ভারতের কাজে লাগানো উচিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুসংহত করার সুযোগ এখনও রয়ে গেছে এবং ভারতের সেই সুযোগের সদব্যবহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত ও জাপান সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক কার্যক্রম চলছে। সব মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিনি আরও জানান, অভ্যন্তরীণ এসব ব্যস্ততা ও সূচির সামঞ্জস্য হলে অবশ্যই ভারতের পাশাপাশি জাপান সফর অনুষ্ঠিত হবে। সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে এবং এটি মূলত প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বড় সুযোগ থাকে।
প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কতটা চূড়ান্ত রূপ পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যেকোনো সময়ে যখন দুদেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবেও অনেক কর্মসূচি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সামনে আবার পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে। সাংবিধানিক অনেক কাজও সামনে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ব্যস্ত আছে, প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত আছেন। এর মধ্যেই যদি সবকিছু মেলে, অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে-সব সফরই হবে। সেটা দেখা যাক।’
প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন, নাকি দ্বিপাক্ষিক সফরে-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিকস তো অনেক দেরি। এক মাসে বহুত কিছু হয়ে যেতে পারে।’
তবে ভারতের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে নানা কথাবার্তা বলে, তা বাংলাদেশের জনগণ কোনোভাবেই ভালোভাবে নেয় না। বাংলাদেশ আশা করে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখবে।’







