মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:৫৬

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
অনলাইন ডেস্ক

বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা এবং হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে তথ্য অধিদফতরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলো জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তিনি বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে খসড়াটি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ না থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো গেলেও সংসদ চালু হলে প্রথম বৈঠকেই তা বিল আকারে উপস্থাপন ও পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হয়।

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটিতে এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করা হয়।

নতুন সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগ-বঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন। এই ছুটির চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে—দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।

নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে ১৪ দিন। এর মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে—একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।

ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে।

সাপ্তাহিক ছুটির সাত দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যত সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।

বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এই চুক্তির মাধ্যমে দুই অঞ্চলের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধী আটক এবং অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়