রবিবার, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেন শামা ওবায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেন শামা ওবায়েদ
অনলাইন ডেস্ক

ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়েন।

গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি।

হলফনামা অনুযায়ী, শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা বাবদ আয় ৯৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি জিপ গাড়ি, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তিনি ৫০ তোলা সোনা থাকার কথা উল্লেখ করলেও এর আর্থিক মূল্য দেখাননি।

স্থাবর সম্পত্তির বিবরণে তিনি অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কথাও উল্লেখ করেছেন, তবে এর মূল্য নির্ধারণ করেননি।

হলফনামা বিশ্লেষণ

২০১৮ সালে দাখিল করা হলফনামায় শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা। বর্তমান হলফনামায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে তাঁর আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা।

২০১৮ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়। এ সময়ে অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেমেছে। সে সময় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মূল্য জানা না থাকার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমান হলফনামায় কোনো কৃষিজমি দেখাননি, তবে নতুন করে ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির তথ্য যুক্ত করেছেন।

২০১৮ সালের হলফনামায় অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তাঁর নামে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই ধাপে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণের তথ্য ছিল। তবে সর্বশেষ হলফনামায় তাঁর নামে কোনো ঋণ দেখানো হয়নি। একই সঙ্গে বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া সোনার পরিমাণ ৬০ তোলা থেকে কমে বর্তমানে ৫০ তোলা দেখানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়