প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চার দিনেই শেষ হওয়া ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে গিয়ে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। এরপর ব্যাট হাতেও দারুণ জবাব দেয় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ, যা বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে তাদের সর্বোচ্চ লিড। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে চলে আসে বাংলাদেশের হাতে।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করে দলকে লিড এনে দিলেও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বড় লক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ডাক মেরে ফিরলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। তিনি ৩০ রানে এবং সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক হন হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, টেস্ট ক্রিকেটে দলের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ হয়ে থাকল।







