প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩৫
ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে মার্কিন হামলা, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কারাকাস

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়ার স্তূপ দেখা গেছে।
আল জাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই বিস্ফোরণ শহরের দক্ষিণ অঞ্চলের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির নিকটে ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং নীচের দিকে উড়ন্ত বিমান দেখা গেছে। বিস্ফোরণের পর ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
ভেনেজুয়েলা সরকার এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে কারাকাস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, মাদক পাচারের অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন আসলে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ দখল করতে চাইছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ২৪টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানে মাদক পাচারের কোনো অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
এ দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে উৎখাত করতে এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ পেতে চাইছে।
মাদুরো আরও বলেন, ‘যদি তারা তেল চায়, ভেনেজুয়েলা আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।’
সরাসরি প্রশ্ন করা হলে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলার তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করছেন কি না, মাদুরো বলেন, ‘আমরা কয়েক দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে এই সরাসরি আঘাত একটি মারাত্মক উসকানি। বলা যায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া এমন হামলা অবৈধ আগ্রাসনের শামিল। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং পুয়ের্তো রিকোয় ১৫ হাজার সেনার সমাবেশ বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল খাতের জাতীয়করণ প্রক্রিয়াকে চুরি হিসেবে অভিহিত করে তা মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নিতে চান।
অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেও এই সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনলেও তা কার্যকর করা যায়নি। ফলে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা আরও বাড়ছে।
মাদুরো সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু বিস্ফোরণের কারণ এবং হামলার সঙ্গে যুক্ত কারো পরিচয় সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানাননি।







