বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২

জাতীয় নির্বাচন: জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় নির্বাচন: জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এই সহায়তা চান তিনি।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

টেলিফোনে আলাপকালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের এক ধরনের বন্যা বইছে। এসব তথ্য বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয় উৎস—উভয় দিক থেকেই আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর, গুজব ও নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন।

জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ভলকার টুর্ক বলেন, ভুল তথ্যের পরিমাণ অনেক বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা যা প্রয়োজন, জাতিসংঘ তা করবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

টেলিফোন আলাপে দুই নেতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

ভলকার টুর্ক জোর দিয়ে বলেন, গুম সংক্রান্ত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে বাস্তব অর্থে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে এবং দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ড. ইউনূস আরও জানান, তিনি গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করেন ভলকার টুর্ক। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গুম তদন্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

টেলিফোনে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়