প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭
প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে একীভূতকরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ গ্রাম থেকে শহর এবং ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করা হবে। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বের জায়গায় থাকবে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা।
তিনি জানান, দেশে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শুধু ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। তাদের বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গর্ভধারণ থেকে নবজাতকের সেবা
ডা. জুবাইদা বলেন, গর্ভধারণের আগের সময় থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী সময় এবং নবজাতকের সেবা—পুরো প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলে মাতৃস্বাস্থ্যের পুরো যাত্রায় ধাত্রীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সেবার পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নেওয়া হবে।
তিনটি অগ্রাধিকারের কথা
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মিডওয়াইফ নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে পারে—স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো, আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুফল বৃদ্ধি করা।
তার মতে, এ ব্যবস্থা নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও কাছে নিয়ে আসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থে স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে পারে। একই সঙ্গে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
সুইডেন সরকার ও ইউএনএফপিএর অংশীদারত্বে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।







