প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫১
কোরআন শিক্ষা ও চর্চায় উৎসাহ দিতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কারজয়ী হাফেজ ও কোরআন শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি দেশে কোরআন শিক্ষা ও চর্চায় উৎসাহ দিতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের এমন সাফল্য অর্জন জাতির জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। এ অর্জনের জন্য বিজয়ী প্রতিযোগী, তাঁদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারও অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাক্ষাতে বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিভাবক ও শিক্ষক-উস্তাদরা তাঁদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা বলেন, মাদ্রাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের সম্মানিত করা হলে মানুষ কোরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও উৎসাহিত হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। অতীতেও এ দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
কোরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ী প্রতিযোগীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান।
এ ছাড়া ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। তাঁদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদেরও সৌজন্য উপহার দেন তিনি। এ সময় বিজয়ীদের অভিভাবক, শিক্ষক-উস্তাদ, কোরআন শিক্ষা মিশন বাংলাদেশের পরিচালক, রাষ্ট্রপতির সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







