প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যতটুকু কাজ করেছে, তা সংশ্লিষ্ট নেতারাই স্বীকার করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতিত হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তাঁর কর্তব্য। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে তাঁরা ভুল করেননি বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান নেতারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।
এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।







