প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০১
সাজেক সড়কে ফের অবরোধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। অবরোধ চলাকালে উজোবাজার এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে এ অবরোধ শুরু হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা এসকর্ট বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসকর্টটি উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা সেটির চলাচল আটকে দেন।
পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাতে সাড়া না পাওয়ায় একপর্যায়ে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় উজোবাজার এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়।
বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারিকুল ইমরান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা সতর্ক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিন দফা দাবিতে অবরোধ
তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে। বুধবার বিকেলে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ পালনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। মাচলং এলাকার কয়েকটি স্থানে সশস্ত্র তৎপরতা, সাধারণ মানুষকে হুমকি এবং গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছিল সংগঠন দুটি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ শুরু হয়। পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আগের অবরোধের সময়ও পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পাঠানো এসকর্ট উজোবাজার এলাকায় আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময়ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল জেলা প্রশাসন, যা ১৫ অক্টোবর প্রত্যাহার করা হয়।
ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা
সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় চাষিরা।
আগের অবরোধের সময় সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
নতুন করে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ, পর্যটন কার্যক্রম এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।







