প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪২
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল ও একমাত্র পরিচয় 'বাংলাদেশি' এবং দেশে 'আদিবাসী' বলতে কোনো পৃথক গোষ্ঠী নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'ইনডিজেনাস আইডেনটিটি ইজ ই-রিলিভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিকের অধিকার সমান।" তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সমঝোতার দলিল 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এ সর্বসম্মতিক্রমে সকল মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জাতীয় ঐক্যই দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের মূলধারার সমতায় আনতে বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে এবং তা বজায় রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বহুভাষী রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেসব দেশেও পৃথক 'আদিবাসী' পরিচয়ের বদলে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করার নীতি অনুসৃত হয়।
জাতিসংঘের 'ইনডিজেনাস পিপলস' বিষয়ক ঘোষণা (ইউএনডিআরআইপি) প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটি গ্রহণের সময় বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ফলে ইউএনডিআরআইপি কিংবা আইএলও কনভেনশন-১৬৯ বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।
সিএইচটিআরএফ-এর চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।







