প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৩
লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে বাবার আইফোন কেনা, সেই শিশুপুত্র উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মারুফ মুন্সি নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে সন্ধ্যায় উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মারুফকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। পরে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময়েও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ শুরু করেন।
পরে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান এবং পুরোনো ফোন বদলে একটি নতুন আইফোন কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি শিশুটিকে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইমরান হোসেনকে থানায় ডেকে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।
পরে ইমরান জানান, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে মাহাবুব গাজী শিশুটিকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক মারুফের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।







