রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯

মক্কা-মদিনার প্রশ্নে আপস নয়, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

মক্কা-মদিনার প্রশ্নে আপস নয়, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ দুই পবিত্র নগরীর মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই অঞ্চলে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

মক্কা প্যাক্টের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার—এ প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এতদিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় সরকার। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি জানান, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও সফরে আলোচনা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়