প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩
রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার না হলে তারেক রহমানও একই পথে হাঁটবেন: নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন ও সংস্কার না হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসৃত পথেই হাঁটবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার চালক পরিবর্তন হলেও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ও ব্যবস্থা বদলায়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মুন্সিগঞ্জ শহরের কাচারি এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বেলা ১টার দিকে একই এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করেনি। দলটি যখনই ক্ষমতায় গেছে, তখনই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচন ঘিরে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা করছে। মাঠপর্যায়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে দলটিকে আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যে বিএনপি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একইভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়, তা নিয়ে দলটি ভাবছে বলে তাঁর অভিযোগ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণার বিষয়গুলোও এ সংশয় বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি টালবাহানা করছে এবং নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর চেষ্টা করছে। এনসিপি এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হতে দেবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় এ ব্যবস্থার দাবি উঠেছিল এবং সে সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো তা মেনে নিয়েছিল।
তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি না মেনে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনের মুখে দলটিকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।
২০০৬ সালের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সে সময়ও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলই বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সে ক্ষেত্রে সফল হলেও বিএনপি সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে বিএনপিও আওয়ামী লীগের মতো স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশকে নানামুখী চাপে ফেলতে ভারত আওয়ামী লীগকে দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁদের প্রস্তাবিত র্যাঙ্কড চয়েস পদ্ধতির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত ফর্মুলা পাস করতে হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সারজিস আলম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল আমিন, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলীসহ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা।
সভায় দলের সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।







