শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩০

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির আচরণ নিয়ে যত অভিযোগ

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির আচরণ নিয়ে যত অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক

মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মাইক্রোফোন ও ফোন কেড়ে নেওয়া, ট্রাইপড ভাঙা এবং এক সংবাদকর্মীকে খামচি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক। এ ছাড়া তাঁর দেহরক্ষীদের ধাক্কায় এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসব ঘটনা ঘটে। পরীমনিকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতে প্রবেশের সময় পরীমনির সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন দেহরক্ষী। আদালতের কার্যক্রম শেষে গাড়িতে ওঠার সময়ও তাঁরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। এ সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে পরীমনি ও তাঁর দেহরক্ষীরা অভিযোগ করেন, এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন। পরে ওই সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন অভিনেত্রী। এ সময় তাঁকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে ভিডিওতে ঠিক কোন মুহূর্তে ওই সাংবাদিক পরীমনিকে ধাক্কা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ওই সাংবাদিকের পরিচিতজনদের দাবি, তাঁর একটি হাত ছোটবেলা থেকেই অকার্যকর। অন্য হাত দিয়ে তিনি ক্যামেরা ও ট্রাইপড সামলে কাজ করেন। তাই পরীমনির গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারী ওই সাংবাদিক একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, লিফটে ওঠার সময় তাঁকে ভিডিও করতে দেখে পরীমনি তাঁর ফোন কেড়ে নেন। এ সময় ট্রাইপডও ভেঙে ফেলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্য একটি ভিডিওতে আরেক সাংবাদিককে তাঁর হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে পরীমনির বিরুদ্ধে খামচি দেওয়ার অভিযোগ করতে দেখা যায়।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেহরক্ষীদের ধাক্কাধাক্কির সময় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ভাইয়ের দাবি, পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় তাঁর ভাই আহত হয়েছেন। পরে তাঁর মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

এদিকে ঘটনাগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরীমনি বা তাঁর পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০২১ সালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন আদালতে হাজির হননি পরীমনি। তাঁর আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। পরে বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়