বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬  |  

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:২৫

জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক

জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান পাশে ছিল। এখন জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের শিল্প খাত গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসার সময়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট। আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি। আমাদের জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি করি এবং দুই মহান দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করি।”

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো) এবং দ্য জাপান–বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফোরামে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যেসব দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের অন্যতম। সেই সময় থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বিশাল বাজার রয়েছে। জনগোষ্ঠীর মধ্যম বয়স মাত্র ২৭ বছর। পাশাপাশি রয়েছে তরুণ ও প্রশিক্ষণযোগ্য কর্মশক্তি। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এ বছর বাংলাদেশ ও জাপান একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি বাংলাদেশের কোনো দেশের সঙ্গে সম্পাদিত এ ধরনের প্রথম চুক্তি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্বের সূচনা হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। একইভাবে ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্যও বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা ভোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সহজতর ও প্রগতিশীল নিয়ম চালুর ফলে উভয় দেশের বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এমন একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ জাপানি ভাষা শিখবেন, এ ভাষায় কথা বলবেন এবং বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবেন।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি অপরিহার্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন।

তিনি জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে স্বাগত জানান।

প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবননির্ভর আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে। এ উদ্যোগে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

দুই দেশের মধ্যে মহাকাশপ্রযুক্তি সহযোগিতারও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের উন্নত সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ এ ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীল অর্থনীতির জন্য দেশের শহর ও গ্রাম, কারখানা ও সমুদ্রবন্দরের মধ্যে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক এবং উচ্চগতির রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ রেলব্যবস্থা দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করবে।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। তাই দেশব্যাপী উড়াল মহাসড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ এবং অর্থায়নের ক্ষেত্রেও জাপানের সহযোগিতা স্বাগত জানানো হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়