প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭
স্টার্কের তাণ্ডবে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩৪ ওভারেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক। এরপর তার দ্বিতীয় ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সাজঘরে পাঠান এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম তিন ব্যাটারের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
স্টার্কের তোপে ১২ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৯ রান করে তার শিকার হন। লিটন দাসও ফেরেন শূন্য রানে। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের দ্রুততম ফাইফারের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসেন স্টার্ক।
মুশফিকুর রহিম ৪২ বলে ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হলে ২১ রানেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাদের জুটিতে লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় সেশনে প্যাট কামিন্স এসে মিরাজকে ফেরালে ভাঙে এই জুটি। মিরাজ করেন ১১ রান। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে ১০ রান করে ফেরেন হাসান মাহমুদ। এরপর কামিন্সের তৃতীয় শিকার হন তাসকিন আহমেদ। ফলে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা এড়ায় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম হ্যাজেলউডকে চার মেরে দলীয় রান বাড়ান। এরপর শরিফুল ইসলাম ও তাইজুলের জুটিতে কিছু রান যোগ হয়। ১৯ বলে ১৪ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন শরিফুল। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। তাদের ২৫ রানের জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ।
শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন স্টার্ক। ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। প্যাট কামিন্স নেন ৩ উইকেট, আর একটি উইকেট পান জশ হ্যাজেলউড।
এর আগে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় তাই আরও হতাশার।







