প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৯
কুড়িগ্রাম থেকে ভোলা ৬০০ কিমি পদযাত্রায় মাসফিকুল হাসান টনি

নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম থেকে ভোলা পর্যন্ত ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একক ‘ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং’ শুরু করেছেন পরিবেশকর্মী ও অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার সীমান্ত চর ইটালুকান্দা থেকে এই পদযাত্রার সূচনা হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC)’–এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানের শিরোনাম— “নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও”।
আয়োজকদের জানানো হয়েছে, এই পদযাত্রায় মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে শুরু করে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরিতে গিয়ে যাত্রা শেষ করবেন। পদযাত্রার পুরো পথজুড়ে নদীভাঙন, নদীদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হবে।
আয়োজকদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের নদীব্যবস্থা ও নদীঘেঁষা জনপদ আজ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধেই এই পদযাত্রার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
পদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল, বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সভাপতি ও এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, ধরা জামালপুরের আহবায়ক মো. মাহবুবুর রহমান মহব্বতসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে পড়েছে। উজানের পানি আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাসফিকুল হাসান টনির এই দীর্ঘ পদযাত্রা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার একটি সাহসী উদ্যোগ।
তাঁরা আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই কর্মসূচি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাছে পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আনবে।







