প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩২
সংস্কারের পর যমুনায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

সংস্কারের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এটি বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবনের অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান চিহ্নিত হলেও শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা ত্যাগ করলে সেটিকে সংস্কার করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হবে। সংস্কারের কাজ এক থেকে দুই মাস সময় নিতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য ১৫১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনে বিএনপি দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের সমর্থন পেয়েছে এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই পদে বসতে যাচ্ছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর এবং মন্ত্রীদের বাসভবন নির্ধারণের কাজ শুরু করে। কমিটির সুপারিশে শেরেবাংলা নগরের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তুলনায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে বেশি উপযোগী মনে করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রাখা হয়েছে।
‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) ১৯৭৫’ আইনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সরকারি বাসভবনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাসভবনের সজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইউটিলিটি বিল সরকার বহন করবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবনে না থাকলে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা গৃহভাড়া ভাতা পাবেন।
আইনে উল্লেখ রয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ সব ইউটিলিটি সেবা সরকারের ব্যয়ভার বহন করবে। দায়িত্ব ত্যাগের পরপরই প্রধানমন্ত্রী এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে বসবাস করতে পারবেন। বাসভবনের বাইরে থাকলে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও পাবেন।
সংস্কারের পর যমুনা ভবন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত হলে এটি নতুন নেতৃত্বের আবাসিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা সরকারের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।







