প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:১৮
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) শক্তিশালী করা, প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বাকি কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাস পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা গেলে দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে।
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।







