প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩৯
ভোলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলাতেই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিতে হলে অবকাঠামো নির্মাণসহ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় সাত বছর সময় লাগবে। তাই স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে দ্রুত শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনে কয়েকজন উদ্যোক্তা কাজ শুরু করেছেন। ভোলায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি জানান, ভোলার গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সেখানে একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য একটি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জেলার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
ভোলাকে কেন্দ্র করে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় ভোলা ও আশপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অঞ্চলে ইলিশসহ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, চরাঞ্চলে কৃষির উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও নৌ-নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস, উর্বর কৃষিজমি, সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদসহ ভৌগোলিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দ্বীপ জেলা ভোলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।







