প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২২
এশিয়া কাপ ব্যর্থতার পর জ্যোতির যত ব্যাখ্যা

নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও হতাশ করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পুরো আসরজুড়েই ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। অন্যদিকে বোলাররা ভালো করলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিল্ডিংয়েও হয়েছে একাধিক ভুল।
বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৫০ রান। কিন্তু ৭ উইকেটে ১০৭ রানের বেশি করতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যর্থতার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাব, ধীর উইকেট, ক্যাচ মিস ও ভারতের ব্যাটারদের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার বিষয়।
ভারতের ইনিংসে বাংলাদেশ চারটি ক্যাচ মিস করলেও ফিল্ডিংয়ের প্রশংসা করেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি… তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’
ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই ম্যাচে যারা রান করেছে, এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’
উইকেটের ধীরগতিকেও ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, ‘বোলাররা গত তিন ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।’
ভারতের ব্যাটারদের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপও ছিল জ্যোতির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ওই ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’
দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’
ভারতের রান আরও কমানো সম্ভব ছিল বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত। তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকত।’
তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতাই বাংলাদেশের সেমিফাইনালে হারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে টাইগ্রেসদের।







